Showing posts with label Bangla Love Story. Show all posts
Showing posts with label Bangla Love Story. Show all posts

Sunday, November 4, 2018

কিডন্যাপ করে বিয়ে, পার্ট - 02




ঢুকবো দেখি নূপুর আমার ছাত্রের রুমে। আর ছাত্রের সাথে কি যেন বলতেছে।(আমি শেষ মনে মনে😰)
আমাকে দেখার মাত্রই আরএ মাষ্টার মশাই ভিতরে আসুন। (নূপুর)

আমিতো মূর্তির মতো স্থির দাড়িয়ে আছি।।(ভয়ে)
কি হলো ভিতরে আসুন (ধমক দিয়ে)

জ্বি। (আমি)
তারপর ভিতরে ঢুকলাম।। (তখনো দাড়িয়ে)
কি হলো বসুন। (নূপুর)

জ্বি।।।তারপর বসলাম।(আমি)

কি জ্বি জ্বি করেন।।। বলেই আমার পাশে এসে বসলেন।।(এতো কাছে কোন মেয়ের সাথে আর বসেনি, আর আমার ছাত্রও এখানে আছে।অব্যশই সে ছোট তাও কি না কি ভাবে)

আর আমার সারা শরীর থেকে ঘাম বৃষ্টির মতো পড়তেছে।।।

কি হলো এতো ঘামতেছেন কেন।। (নূপুর)
বুঝচ্ছি আপনি শরম পাইতাছেন।।। নো প্রবলেম এটাই আমার প্রয়োজন।।(নূপুর)

মানেএএএএ(আমি)
আপনার বুঝার দরকার নাই।।।
আর যাওয়ার সময় রাস্তায় বুঝামু।
এইবলে চলে গেল।।(নূপুর)

আমি আর কি বলমু, ওকে কিছুক্ষন পড়িয়ে,আমার ছাত্রকে বললাম মেয়েটা এখানে কেন,আর তোমাকে কি বলছিলো।(আমি)

না মানা করছে বলতে(ছাত্র)
আমিতো বোকা হয়ে গেলাম,কি আর করার আচ্ছা ঠিক আছে বলে বেরিয়ে আসলাম।।

পথিমধ্যে আসলাম হঠাৎ কোথায় থেকে নূপুর এসেই বলতে লাগলো।

আপনার সাথে কথা আছে, সেদিন ইচ্ছে করেই আপনার সাথে ধাক্কা খেয়েছিলাম।আপনাকে অনেক দিন এই পথে দেখতেছি।এবং অনেক follow করেছি।কিন্তু আপনি আমাকে খেয়াল করেন নি।।আপনিতো শুধু সোজা আসতেন আর যেতেন। এদিক ওদিক তাকাতেন না।।।তাই নিজেই এসেই ধাক্কা দিলাম।।।
সুতরাং i♥u.(এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বললো।নূপুর)

আমি আর কি বলবো থ মেরে দাড়িয়ে আছি।(আমি)

কিছুক্ষন পরে আবার বললো কিছু বলেন।(নূপুর)

(এই প্রথম কেউ আমাকে ♥বললো আবার মেয়ে ।হয়তো ক্ষনিকের জন্য ভালোই লেগেছিলো)।

কিন্তু আবার বাস্তবতায় ফিরে আসলাম।।।কেননা মধ্যবিত্ত পরিবারের ভালোবাসা মানায় না।আবার আমি পরিবারের বড়ছেলে। আমার ওপর পরিবারের সকল দায়িত্ব।(মনে মনে)

তাই নূপুরকে বললাম দেখন আপনি অনেক সুন্দরি, আপনি অনেক সুন্দর ছেলে পাবেন।।। আর আমিতো একটা সাধারন ছেলে।।আর আমার ওপর আমার পরিবারের অনেক কর্তব্য।।।তাই আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন।(আমি অনেক কষ্ট চেপে।।। প্রথম ভালোবাসা সৃষ্টি না হতে সমাপ্তি)

দেখি নূপুর কানতেছে।।।আর বলতেছে এত সহজে আমি হার মানবো না।আমি যা বলি তাই করি।।।আজ পর্যন্ত যা চেয়েছি তাই পেয়েছি।।।দেখবেন আপনাকেও পাব।(নূপুর)

পিছন দিক থেকে নূপুর বলে ডাক দিয়ে বলল কার সাথে কথা বলছ।(আল্লাহ কে দেখে ফেললো নূপুরে ভাই নাকি শুনছি ওর অনেকগুলা ভাই।।। আর এক একটা মাস্তান টাইপের)
পিছনে তাকাতেই।।।।।

চলবে............
"
"গল্পটা সুন্দর করে গুছিয়ে লেখতে চাইছিলাম,,,কোন এক কারনে পরের পাটেই শেষ করবো

Monday, September 10, 2018

নিশির সাথে ব্রেকআপের সিদ্ধান্ত তা নিয়েই নিলাম !






নাহ ! আর সহ্য করা যাচ্ছে না ! এই মেয়ের একটা কিছু করতেই হবে ! কোন ছাড়াছাড়ি নাই !
আর কোন ছাড়াছাড়ি নাই
আমি সিদ্ধন্ত নিয়ে নিয়েছি !
কাল রাত থেকেই আমি ভাবলাম এমন কিছু একটা ! ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম ! স্বপ্নেই পেয়ে গেলাম সেই সমাধানটা ! আসলেই তো তাই ! এমন করে গাধার মত জীবন টানার কোন মানে হয় না !
আমি এবার মুক্ত হতে চাই !!
একেবারে মুক্ত !
নিশির সাথে ব্রেকআপের সিদ্ধান্ত তা নিয়েই নিলাম ! আজকে বিকালে ওর সাথে দেখা হবার কথা আছে ! আজকেই জানিয়ে দিব !
ওকে বলবো যে আমি তোমার প্রেমিক হতে এসেছিলাম ! তুমি আমাকে তোমার পোষ্য প্রানী বানিয়ে ফেলেছ ! সুতরাং আর না !
আজ থেকে নতুন কাউকে খুজে নিও !
আমাকে আর কলুর বলদ হতে পারবে না !
আমি জানি প্রথমে হয়তো ও বিশ্বাস করতে চাইবে না ! একটু চোখ গরম করবে !
কিন্তু হু কেয়াস ম্যান ?
আমি আর ডরাই নাকি ?
আমি আজ থেকে মুক্ত !!
সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই মনটা ফুরফুরে লাগছে ! আমি গোসল করতে গেলাম ! ঠান্ডা পানি মাথায় পরতেই নিশির সেই দিনের কথা মনে পরে গেল ।
মনে আছে একবার নিশি আমাকে পরপর দুই সপ্তাহ গোসল করতে দেয়নি ! তখন নিশির সাথে সবে মাত্র রিলেশন হয়েছে । সারাদিন কেবল ওর কথাই মনে পরে ! সেদিন ওর সাথে কোথায় যেন যাওয়ার কথা ছিল !
ও হ্যা মন পড়েছে !
উত্তরার দিকে ! ওর নাকি কাজ আছে ।
আগের দিন নিশি আমাকে বলেছিল যে আমি সকাল বেলাতেই গোসল করেই রেডি হয়ে থাকি ! আমি একটু নাহু নাহু করতেছিল ! এমনিতেও শীতের বেলা ! তার উপর সকাল বেলা ! এতো সকাল বেলা কি ঠান্ডা পানি দিয়ে গোছল করা যায় নাকি ?
আমি কি করলাম , একটু মাথা ভিজিয়ে চেলে গেলাম ! আমি ভেবেছিলাম নিশি হয়তো বুঝতে পারবে না ! কিন্তু নিশি ঠিকই বুঝে ফেলল !
তখন সে কি রাগ !
তার কেবল একটাই কথা ! আমি কেন তার কথা শুনলাম না !
কেন শুনলাম না !
তাই শাস্তি স্বরূপ বলল যে আমি যেন দুই সপ্তাহ গোছল না করি ! যদি করি তাহলে আমার খরব আছে !
আমি প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো ও ঠাট্টা করছে কিন্তু যখন বুঝতে পারলাম যে সে সিরিয়াস, আমার তো অবস্থা খারাপ হয়ে গেল !
কত ভাবে বোঝানো চেষ্টা করলাম কিন্তু কে শোনে কার কথা !
তার কেবল একটাই কথা আমার যখন গোছল করতে এতোই কষ্ট তখন সেই কষ্ট যেন আমি নাকি !
তখনই একবার মনে হয়ে ছিল যে সব ল্যাটা চুকিয়ে দেই ! কিন্তু মন সাই দিচ্ছিল না !
৭ দিন গোসল না করতেই গা দিয়ে বিকট সুঘ্রান হওয়া শুরু হল ! আমার রুম মেট আমার রুম ছেড়ে পাশের রুমে চলে গেল ! তবুও আমি গোছল করার সাহস পেলাম না ! পাছে নিশিকে হারাতে হয় !
ইস তখনই যদি করতাম এই কাজটা তাহলেই বরং ভাল হত ! তাহলে এতো ঝামেলা হতই না !
তারপর থেকেই আমি একটু সাবধান ছিলাম ! সব কাজেই একটু সাবধান থাকার চেষ্টা করতাম ! কিন্তু তবুও একটু এদিক ওদিক হয়ে যেত !
আমি চুপচাপ সহ্য করে নিতাম ! আমার কেন জানি মনে হত নিশি আমার সাথে যত যাই করুক এই মেয়েটা আমাকে ভালবাসে !
যখন ওর সাথে রিক্সায় উঠি অথবা ও যখন আমার হাত ধরে কেমন একটা অদ্ভুদ আনন্দের অনুভুতি হয় ! সব থেকে আশ্চার্য লাগে ওকে যখন হলে রেখে আসি তখন ! প্রতিবার যখন বিদায় নিয়ে চলে আসি তখনই কেমন লাগে ! নিশির মুখের দিকে যতবার তাকাই ততবারই এমন টা মনে হয় ! আর সব থেকে বড় কথা নিশির মুখটাও কেমন যেন মলিন হয়ে যায় ! এইটাও আমার কাছে ভাল লাগে !
তাই নিশিকে ছেড়ে যাই নি ! কিন্তু গত দিন ও আমাকে যা করতে বলেছে আমি সত্যি অবাক হয়েছি ! এই কাজটা ও কিভাবে করতে বলল কে জানে ?
ওর সাথে নিউমার্কেটে গিয়েছিলাম ! যদিও শপিং করতে আমার একদম ভাল লাগে না ! একদম বিরক্ত লাগে কিন্তু কিছু করার নাই ! আমি ওর সাথে সাথে হাটছিলাম ! হঠাৎ দেখলাম নিশি কিছু সস্তা আর কেমন উৎকট টাইপের একটা কামিজ কিনল ! সাথে লাল রংয়ের একটা টাইস ! আমি ওকে বললাম
-এটা কি কিনছো ? তোমাকে মানাবে না !
-এটা আমার জন্য না !
-ও আচ্ছা !
দোকান থেকে বের হতে হতে নিশি বলল
-এটা তোমার জন্য !
প্রথমে মনে হল আমি হয়তো ভুল শুনছি ! আমি ওর দিকে খানিকটা অবাক হওয়ার চোখে তাকিয়ে বললাম
-কি বললা ?
নিশি মিষ্টি হেসে বলল
-এটা তোমার জন্য !
-আমার জন্য ?
-হুম ! তুমি এটা পরে আমার জন্য বিভিন্ন পোজে ছবি তুলবে ! তারপর আমাকে দিবা !
আমি যেন আকাশ থেকে পরলাম !
-কেন ?
-আমি আমার বন্ধুদের দেখাবো ?
-মানে ?
-মানে ! আমাদের বান্ধবীদের যাদের যাদের বয়ফ্রেন্ড আছে সবাই এটা করবে ! আমরা সব ছবি গুলো এনে একসাথে দেখবো কার বয়ফ্রেন্ড বেশি সুইট লাগে !
-এটা পাগলামো !
-হোক পাগলামো ! আমি যা বলছি করবা ! ঠিক আছে ? এই নাও !
নিশি আমাকে কামিজের প্যাকেট টা দিয়ে চলে গেল ! আমি বিমুঢ় হয়ে দাড়িয়ে রইলাম কিছুক্ষন !
এই মেয়ের সমস্যা কি ?
আমি মেয়েদের এমন উৎকট পোষাক পরে দাড়িয়ে আছি আর কয়েকটা মেয়ে আমাকে দেখছে আর হাসা হাসি করছে এটা ভাবতেই আমার গা কেমন গুলিয়ে আসলো !
নাহ ! এটা হতে পারে না !
আমি এই কাজ করবো না !
কিছুতেই না !
বিকেল বেলা নিশির সাথে দেখা হতেই প্রথমে আমার কাছে ছবি চাইলো !
আমি বললাম
-নাই !
-নাই মানে কি ?
আমি খানিকটা ড্যাম কেয়ার ভাব নিয়ে বললাম
-নাই মানে নাই ! তুলি নাই !
নিশি খানিকটা অবাব হওয়ার ভা নিয়ে বলল
-তুলো না মানে ?
-বাংলা কথা বুঝ না ? ইচ্ছা হয় নাই তাই তুলি নাই !
আগের থেকেও আরো বেশি অবাক হেয় নিশি বলল
-আমি তোমাকে একটা কাজ করতে বললাম আর তুমি সেটা করলা না ?
-দেখ, তুমি যাই বলবে তাই তো আমি করবো না ! তুমি যদি এখন বল দশতলা বিল্ডিং থেকে লাফ দিতে আমি কি দিবো ?
-হ্যা দিতে হবে ! আমার সাথে রিলেশন রাখতে হলে তাই করতে হবে !
আমি একটু হাসলাম !
এই ভয়টা নিশি আমাকে অনেকবার দেখিয়েছে ! আর আমি ভয় পেয়েছিও বটে !
আমি হাসি মুখে বললাম
-সেই দিন আর নাই গো মমিন !
-কি বলতে চাও তুমি ?
-দেখ নিশি তোমাকে ভালবাসি তার মানে এ না তোমার সব অন্যায় আবদার আমি রাখবো ! এতে যদি তুমি আমার সাথে রিলেশন না রাখতে চাও, ফাইন ! গো টু হেল !
আমি দেখলাম নিশির কেবল একরাশ বিশ্ময় নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছি !
আমি আবার বললাম
-আমি তোমার প্রেমিক হতে এসেছিলাম তুমি আমাকে পালতু কুকুর বানিয়ে দিয়েছ ! কিন্তু আর না !
আর থামলাম না !
-এই অপু ! যাবে না বলতেছি !!
নিশি পেছন থেকে ডাক দিল ! কিন্তু এখন শোনার টাইম নাই !আসলেই নাই !
আজ আমি মুক্ত !!
কারো কথা শোনার টাইম নাই !
কিন্তু দুদিন যেতে না যেতেই বুঝলাম আসলে ব্যপারটা তেমন সহজ হল না যেমন টা ভেবেছিলাম । নিশিকে যেন খুব বেশি মনে পড়তে লাগলো !
আচ্ছা নিশির কাছে কি ফোন করবো ?
নাহ !
করবো না !
কোন দরকার নাই !
সত্যি কি দরকার নাই ?
ভাবছি ভাবছি যে নিশিকে ফোন করবো কি না ঠিক তখনই নিশি ফোন করে ফেলল !
আল্লাহ ! ও কি আমার মনে কথা বুঝে ফেলল নাকি ?
এখন যদি ঝারি মারা শুরু করে ?
আমি ফোন রিসিভ করলাম !
-হ্যালো !
ওপাশ থেকে খানিকক্ষন নিরবতা ! তারপর কান্নার আওয়াজ ! আমি বললাম
-কি হল ! কাঁদছো কেন ?
-কাঁদবো না ! কি করবো ! হাসবো ?
-কাঁন্না কাটির তো কিছু নাই !
-কান্না কাটির কিছু নাই ?
নিশি যেন চিৎকার করে উঠলো ! তারপর বলল
-আমার কাছের মানুষটি আমাকে ডাম্প করে চলে গেছে আর আমি কাঁদবো না ?
আমি একটু যেন সাহস পেলাম ! নাহ ! এই মেয়ে কিছু বুঝে নাই !
আমি বললাম
-এই কথা আগেই চিন্তা করার দরকার ছিল !
ওপাশে থেকে নিরবতা ! লম্বা নিরবতা !
আমি বললাম
-কি কিছু বললবা নাকি আমি ফোন রেখে দিবো !
আগে এই ফোন রাখার কথা বললেই আমার খবর ছিল ! নিশি বলত কেন আমার কথা কথা বলতে ভাল লাগছে না ! অন্য কাউকে দরকার !
কিন্তু আজকে কিছু বলল না ! আমিও চুপ করে রইলাম ! একটু পরে নিশি নিজেই বলল
-জানো এ দুই দিনে আমি আমি তোমাকে অনেক মিস করেছি ! অনেক বেশি ! বারে বার মনে হচ্ছিল কি যেন নাই ! আমার কি যেন হারিয়ে গেছে !!
-তাই ?
-তোমার মনে হয় নি ?
-হুম হয়েছে !
-একটা কথা বলবো তোমাকে ?
-বল !
-আসলে তোমার সোজা করার জন্য আমি এমনটা করেছি !
আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম !
-সোজা ?? আমাকে ?
-হুম ! আমি এইটাই বলতে তোমাকে ডেকেছিলাম ! তুমি আমার সব কথা এমন বিনা বাক্যে মেনে নিতে কেন ? যা বলতাম তাই করতা ! কেন ?
আমি কিছু বুঝলাম না নিশির কথা !
নিশি আবার বলল
-ছেলে মানুষ হবে ছেলে মানুষের মত ! আমি তোমাকে যা বলি তুমি চুপ চাপ তাই মেনে নাও এটার কোন মানে হয় ! ভেড়া !
-ভেড়া ?
-তা নয়তো কি ? শুনো মেয়েরা এমনি ভয় দেখায় কিন্তু কখনও ছেড়ে যায় না ! এটা একটা কথস বল ! তাই তো আমি এমন টা করেছি ! আমার জন্য কেন তুমি তোমাকে পরিবর্তন করবে ! তোমার যেটা পছন্দ হবে না সেটা কেন করবে ?
-তাই ?
-মেয়েটা ভেড়া মার্কা ছেলেদের পছন্দ করে না বুঝছো ! এখন মনে হচ্ছে আমি একটা ছেলের সাথে প্রেম করছি !
-এতো দিন কি মনে হয়েছে ?
-বললাম না একটু আগে ! ভেড়া !
আমি তাড়াতাড়ি বললাম
-আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে ! আর বলতে হবে না ! আমি একদম বুঝে গেছি !
নিশি বলল
-আচ্ছা ঠিক আছে ! আচ্ছা শুন ! কালকে আমার একটা কাজ আছে সাভারে ! আমার সাথে যেতে হবে !
-কখন ?
-সকালে !
-আচ্ছা ! কোন সমস্যা নাই !
-আচ্ছা কালকে সময় মত পৌছে যাবা কিন্তু ! আমাকে যেন দাড়িয়ে থাকতে না হয় !
-হুম ! হুম ! কোন সমস্যা নাই !
আমি ফোন রেখে দিলাম ! তারপর মনে এইটা কি হলো ! যেই লাউ সেই কদু ! আমি রাজি হলাম কেন ? আমার কালকে সকাল বেলা ক্লাস আছে !
ফোন টা হাতে নিয়ে ফোন করতে গিয়েও করলাম না ! আসলে এতো দিনের অভ্যাস এতো সহজে কি যায় !!!!

গল্পঃ বন্ধু....







-ভাইয়া, আমি তোমার বন্ধুর কাছে আর পড়তে যাবনা।
-কেনো? কি হয়েছে?
-জনি ভাই তোমার বন্ধু। আমি তাকেও ভাই মনে করতাম। আর আজ উনি আমাকে প্রপোজ করছে। এখন আবার জনি ভাইয়ের কাছে পড়তে গেলে খারাপ লাগবে।
-আচ্ছা ঠিক আছে যাসনে। প্রতিভা কোচিং সেন্টারে ভর্তি করিয়ে দেব।
.
মনটা খারাপ হল। খুব খারাপ। জনির কাছ থেকে আমি এটা আশা করতে পারিনি। সে ছিল আমার ছোট বেলার বন্ধু। প্রাইমারী স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে জনির রোল নং ছিল এক আর আমার তিন। তৃতীয় শ্রেণীতে আমার এক আর জনির রোল হয় দুই। তৃতীয় শ্রেণীতে উঠার পর প্রথম যেদিন গেলাম সেদিন জনি আমাকে একটি সাদা গোলাপ দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছিল। সেইতো বন্ধুত্বের শুরু।
স্কুলের থেকে ফেরার পথে সে আমাকে তাদের বাড়ি নিয়ে যেত। তার ভাই বোন কেউ ছিলনা। খুব ছোটবেলা বাবা মারা যাবার পর তার মা টেক্সটাইল মিলে কাজ করে সংসার চালাইত। আমার চোখে পানি এসে যেত। একজন মা বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে কত কষ্ট করে দুই জনের সংসারটাকে চালিয়ে নিচ্ছে। প্রাইমারীতে জনি বৃত্তি পেল, আমি পাইনি। সে ভর্তি হল নরসিংদী কালী কুমার উচ্চ বিদ্যালয়ে আর আমি ইউ এম সি আদর্শ বিদ্যালয়ে। দুই জনের দুই স্কুল থাকায় যোগাযোগটা একটু কমে গিয়েছিল।
.
আমি যখন লেখাপড়া ছেড়ে দেই তখন জনি অনার্সে। আমি লেখাপড়া ছেড়ে ভবঘুরের মত পথে প্রান্তরে বন্ধুদের নিয়ে দাপিয়ে বেড়াতাম। বাড়ি থেকে অনেক দূরে গিয়ে আড্ডা দিতাম। কারণ কেউ যদি দেখে ফেলে শ্রাবণ সিগারেট খায় তাহলে চক্ষুলজ্জায় পড়তে হবে। তখনো জনির সাথে দেখা হত। আমি তার বাড়ি যেতাম। আন্টির সাথে দেখা করতাম। জনিকে এক সময় পেলে অন্যসময় পেতামনা। লেখাপড়ার পাশাপাশি টিউশনি করত। আমার ভালো লাগত। কারণ তার মায়ের পরিশ্রমে একটু হলেও সহায়তা হয়।
.
ছোট বোনের কাছে জানতে পারলাম আমাদের এলাকার দশ বারোজন ছেলে মেয়ে জনির কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়। সেই সুবাধে ছোট বোনটিও সবার সাথে পড়তে যেতে চায়। আব্বু আম্মুও অমত করেনি। আর আজ কিনা জনি.....
এই বিষয়ে যত ভাবব তত খারাপ লাগবে। যতটা সম্ভব অন্যদিকে মন দেয়ার চেষ্টা করি।
.
রাস্তার গলিতে দেয়ালের উপর বসে চার বন্ধু সিগারেট খাচ্ছিলাম। পড়ন্ত বিকেলেও রাস্তাটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা থাকে। খেলা নিয়ে কথা হচ্ছিল। আমাদের ফুটবল খেলার দলটি সেমি ফাইনালে গিয়ে হেরে গেল। খেলায় কার কি ভুল ছিল এটা ওটা বলতেছিলাম। আমার ডান হাতের দুই আঙ্গুলের ফাঁকে জ্বলন্ত সিগারেট। আমি ঠোটে নিয়ে যেই আরেকটা টান দিচ্ছিলাম তখনই চোখে পড়ল সামনে দিয়ে জনি যাচ্ছে। জনিকে দেখে আমি দ্রুত সিগারেট লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করলাম। জনি কোন কথা না বলে চলে গেল। মনটা কিঞ্চিত খারাপ হল।
সাথের একজন বলতেছে, "জনিকে দেখে সিগারেট লুকানোর কি হল? সে তো তোর ছোট বেলার বন্ধু।"
আমি জবাব দিলাম, "সে এখনো লেখাপড়া করে। ভালো ছাত্র। আমাকে সিগারেট খেতে দেখলে ভাববে আমি খারাপ হয়ে গেছি।"
-সিগারেট খেলেই যে মানুষ খারাপ হয়ে যায় এটা কে বলল তোকে? তোর শিক্ষিত বন্ধুতো সেটা আরো ভালো করে বুঝার কথা।
-সিগারেট খেলে খারাপ হয়ে যায় না। তবে খাওয়া যে ভালো সেটাওতো না। যারা সিগারেট না খায় তারা সিগারেট এবং যারা সিগারেট খায় তাদের ভালো চোখে দেখেনা।
-সিগারেট দিয়ে পুরো জীবনের ব্যক্তিত্ব নির্বাচন করা যায়না শ্রাবণ। অনেক বড় জ্ঞাণী, গুণী, লেখক, সেবক অন্যান্য মহৎ পেশার মানুষরাও সিগারেট খায়। তাই বলে তাদের কেউ ভালো চোখে দেখবেনা সেটা আমি মানতে পারিনা।
তাদের সাথে আর তর্ক না করে বাড়ির উদ্দেশ্যে হাটা দিলাম। মনে মনে ভাবতেছি, জনি আমাকে খারাপ ভাবেনিতো?
.
চরাঞ্চলের একটি হাইস্কুলে জনির চাকরি হয়েছে। সে এখন একটি স্কুলের শিক্ষক। আমার গর্ব হচ্ছে। আমার বন্ধু হাই স্কুলের শিক্ষক। কিন্তু জনি আমাকে একটিবার জানানোর প্রয়োজন মনে করলনা কেন বুঝতে পারছিনা। মন খারাপ করলামনা। নিজেই দেখা করার জন্য মনস্থির করলাম। কিন্তু একটা উপহার নিয়ে যাওয়া দরকার। কি নেয়া যায় সেটা ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ মনে হল একটি কলম উপহার দেই। জনি যখন স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াবে তখন তার পকেটে থাকবে কলম। নয়তো হাতে কলম নিয়ে হাজিরা খাতায় রোল নং ডাকবে। ১, ২, ৩, ৪....
ভাবলেই কেমন ভালোলাগা কাজ করে।
.
একটা সাদা গোলাপ নিলাম সাথে। প্রাইমারী স্কুলে আমি প্রথম হওয়ায় জনি একটি সাদা গোলাপ দিয়েছিল। আজ আমিও তাকে সাদা গোলাপ উপহার দেব।
বাড়িতে গিয়ে জানতে পারলাম জনি বাড়িতে নেই। রাস্তার পাশের দেয়ালে বসে আছি। হয়তো টিউশনি শেষ করে এই পথ দিয়েই জনি ফিরবে।
.
দূর থেকে জনিকে দেখেই একটা ভালোলাগা কাজ করছিল। কাছাকাছি আসায় হাসিমুখে সাদা গোলাপটি এগিয়ে দিয়ে বলতেছি,
-অভিনন্দন বন্ধু। তুমি শিক্ষক হয়েছো শুনে গর্বে আমার বুক ভরে যাচ্ছে। এই দেখো তোমার জন্য একটি কলম উপহার এনেছি। তুমি এই কলম দিয়ে......
-থামো। অনেক বলেছো। কাকে বন্ধু বলতেছো? কোন নেশাখোর ছেলে আমার বন্ধু হতে পারেনা।
লজ্জানত হয়ে আবারো বলতেছি,
-জনি আসলে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে সেদিন সিগারেটে দুইটা টান....
- আর কিছু শুনতে চাচ্ছিনা আমি। আশা করব আমার সামনে এসে আর কখনো বন্ধুত্বের দাবি নিয়ে দাড়াবেনা।
কথাগুলো বলে জনি হনহন করে চলে যাচ্ছে। আমার চোখে কি যেন পড়ছে। চোখ কচলাতে ইচ্ছে করছে। নিশ্চয় চোখে কিছু পড়ছে। তাই গাল বেঁয়ে পানি পড়ছে টপটপ করে।
.
জনির সাথে আমার আর কোনদিন কথা হয়নি। কয়েকদিন হঠাৎ রাস্তায় দেখা হত। সে ফিরেও তাকাতনা। আমিও নিজেকে অনেক শক্ত করে ফেলেছি। এখন আর আবেগের বশে চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়েনা।
.
তিন বন্ধু মিলে বাজার থেকে বাড়ি ফিরছি। বাড়ির কাছের চার রাস্তার মোড়ে মানুষের জটলা দেখে এগিয়ে গেলাম। সেখানে একটি ছেলে ও একটি মেয়েকে কয়কজন গাছের ডাল দিয়ে পিটাচ্ছে। ছেলেটি আর মেয়েটি তবুও কান্না করেনা। শুধু হাত দিয়ে মুখ ঢাকার চেষ্টা করতেছে। উপস্থিত একজনের কাছে জানতে চাইলাম, "ভাই কী হয়েছে?"
লোকটি জবাব দিল, "পুকুর পাড়ে তাল গাছের নিচে ছেলেটি আর মেয়েটি আপত্তিকর অনৈতিক কাজ করার সময় ধরা পড়ে। এলাকার ছেলেপুলে রাস্তা থেকে দেখতে পেয়ে ওদের ধরে নিয়ে এসে পিটাচ্ছে। ছেলে মেয়ে দু'জনই অপরাধ স্বীকার করেছে। মনে হয় একটু মারধর করে ছেড়ে দেবে।"
আরেকটু কাছে গেলাম। মেয়েটিকে আগে কখনো এই এলাকায় দেখেছি বলে মনে হচ্ছেনা। ছেলেটির দিকে তাকাতেই ভূত দেখার মত চমকে উঠলাম। ছেলেটি আর কেউ নয়, জনি।
.
কেন যেন খুব খারাপ লাগতেছে মনে। বাড়ি ফিরতেছি আর ভাবতেছি, জনিতো শিক্ষক হয়েছে। সে তো স্কুলের ছোট ছেলে মেয়েদের জ্ঞান দিবে। কিন্তু যে জ্ঞান দিবে, সে জ্ঞানীতো?
পাশ থেকে রফিক বলতেছে, "কিরে? ছেলেটিকে তোর বন্ধু জনির মত দেখলাম।"
আমি জবাব দিলাম, "ধুর, কোন চরিত্রহীন ছেলে আমার বন্ধু হতে পারেনা।"

-না মানে তুমি এতো সুন্দর হলে কিভাবে ?




সাদা চুরিদাড় বা সাদা ল্যাগিংসয়ের উপর আমার বিশেষ দুর্বলতা আছে । কোন মেয়ে যদি এই সাদা ল্যাগিং বা চুরিদাড় সেলোয়ার কামিজ পরে এসে আমাকে প্রোপোজ করে আমি নির্ঘাত হ্যা বলে দেব ।
যদিও সেই সম্ভাবনা খুবই কম । এই টাইপের পোষাক পরা মেয়ে গুলো কেন জানি খুবই মুডি হয় । অন্য কারো দিকে ফিরেও তাকায় না । তারা খুব ভাল করেই জানে যে মানুষ জন তাদের দিকে তাকাবে ।
কিন্তু এই মেয়েটা আমার দিকে তাকাচ্ছে কেন ?
বড়ই রহস্যময় ব্যাপার !
সকাল বেলা এই মেডিক্যাল কলেজ মোড় টাতে এসেছিলাম আড্ডা মারতে । সেমিস্টার ফাইনাল শেষ হয়েছে । এখনও ক্লাস শুরু হয় নাই । তার উপর আমার কম্পিউটার টা নষ্ট হয়ে পড়ে আছে । সময় কাটানোর এক মাত্র উপকরন হচ্ছে এই আড্ডা ।
কিন্তু আজকে যেন একটু তাড়াতাড়িই চলে এসেছি । রমিজ মামার দোকানের পাশে দাড়িয়ে চা খাচ্ছি ঠিক তখনই মেয়েটাকে দেখতে পেলাম ।
আকাশী রংয়ের একটা শর্ট কামিজের সাথে ধবধবে সাদা ল্যাগিং । আর হাতে এপ্রোন । মানে ডাক্তার ! এই মেয়ের ভাব বেশি হবার কথা !
আমি মেয়েটির দিকে তাকিয়ে রইলাম কিছুক্ষন । খানিকটা অবাক লাগছে যে মেয়েটির চেহারা কেমন যেন পরিচিত মনে হল ।
অবশ্য প্রত্যেক লুল পাবলিকেরই সুন্দর চেহারার মেয়েদেরকে পরিচিত মনে হয় ।
তাই আর সেদিকে গেলাম না । কিন্তু একটু পর আমি অবাক হলাম এই দেখে মেয়েটিও আমার দিকে তাকিয়ে আছে ।
হ্যা, এমন হতে পারে যে যখন কোন ছেলে কোন মেয়ের দিকে তাকায় তখন মেয়েটিও ছেলেটির দিকে তাকায় । খানিকটা বিরক্তও হয় মাঝে মাঝে । অবশ্য সবাই হয় । সেটা হয় স্বল্প সময়ের জন্য ।
কিন্তু এই মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে আছে খানিকটা পরিচিত ভঙ্গিতে । একটু যেন হাসি মুখে । বহু দিন পরে যেন কোন পরিচিত কারো সাথে দেখা হয়ে গেছে এমন একটা কিছু ।
তাহলে কি মেয়েটি সত্যি আমার পরিচিত ?
গিয়ে কি কথা বলব ?
আমি আমার আসে পাশে একবার তাকিয়ে নিলাম । এটা নিশ্চিত হওয়া দরকার যে মেয়েটি আসলেই আমার দিকে তাকিয়ে আছে । দেখা যাবে মেয়েটি আমার দিকে না আমার পিছনে বা আসে পাশের কারো দিকে তাকিয়ে হাসছে । কথা বলতে গিয়ে শেষে বেইজ্জত হব ।
একবার বসুন্ধরায় দাড়িয়ে আছি । হঠাত্ পাশে একটা মেয়ে এসে বলল
-কেমন আছে ? বহুদিন কোন খোজ খবর নেই যে !
অপরিচিত মুখ তবুও আমার মনটা ভাল হয়ে গেল । বললাম
-আমি ভাল আছি ।
মেয়েটি আমার দিকে কিছুক্ষন শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল । তারপর চুলের আড়াল থেকে কানের হেড ফোন খুলে বলল
-আপনি আমাকে কিছু বললেন ?
আমি থ হয়ে গেলাম । এই মেয়েটি আসলে ফোন কথা বলছিল আর আমি বেকুবের মত ভেবেছি আমাকে বলেছে ।
অতি উত্সাহী লুল পাবলিকের যা হয় আর কি !
আমি তাই এই বার আর রিক্স নিলাম না । এই সকাল বেলা বেইজ্জত হওয়ার কোন ইচ্ছাই আমার নাই । আমি আসেপাশে আর একবার তাকিয়ে নিলাম ।
চা ওয়ালা মামা আর আমি ছাড়া তো আর কাউকে দেখাও যাচ্ছে না ।
তাহলে কি ?
আমি আবার যখন মেয়েটির দিকে তাকালাম তখন দেখি মেয়েটি আমার দিকে হাটতে শুরু করেছে ।
ও মাই গড !
এদিকেই আসছে নাকি ?
মেয়েটি আমার কাছেই এল । আমি যে বেঞ্চে বসেছিলাম মেয়েটি তার অপর প্রান্তে বসল । তারপর মামাকে চা দিতে বলল ।
মেয়েটি যখন চায়ে চুমুক দিচ্ছে তখন আমি খানিকটা সাহস নিয়ে বললাম
-এক্সকিউজ মি ?
মেয়েটি আমার দিকে তাকাল ।
-একটা কথা জিজ্ঞেস করব ?
মেয়েটি কোন জবাব না দিলেও মাথা নুইয়ে সম্মতি দিল । ওর মুখ দেখে মনে হল ও খুব কৌতুক বোধ করছে ।
-আমি কি আপনাকে চিনি ? মানে আমাদের কি আগে দেখা হয়েছে ?
আমার মনে হল মেয়েটি এখনই বলবে এই কথা আর কয়জন কে বলেছেন ?
কথা অবশ্য সত্যি এর আগেও আমি এই কথা অনেককেই বলেছি । মেয়েদের সাথে কথা শুরু করার একটা পুরানো স্টাইল ।
কিন্তু মেয়েটি যা বলল তাতে আমি খানিকটা না বেশ খানিকটা অবাক হলাম ! মেয়েটি বলল
-আমি তোমার পরিচিত কিনা বলতে পারছি তবে তুমি আমার পরিচিত অপু সাহেব !
এই বলে মেয়ে রহস্যময় হাসি দিল ।
এই মেয়েটি আমার নাম জানে ! তার মানে মেয়েটি আমাকে চেনে । সেই হিসাবে আমারও মেয়েটিকে চেনার কথা । আমি খানিকটা ইতস্তত করে বললাম
-আপনি আমার.....
আমাকে মেয়েটি থামিয়ে দিয়ে বলল
-তুমি !
-আচ্ছা । তুমি আমাকে চিনো ? আমায় নাম জানো ?
-আমি যতদুর জানি তোমার নাম অপু । তোমার বাবা একজন ব্যাংকার । তাই না ?
তারপর মেয়েটি আস্তে আস্তে অনেক কথাই বলল যার মানে মেয়েটি আমার পরিচিত । কিন্তু মেয়েটিকে আমি চিন্তে পারছি না কেন ? এতো সুন্দরী মেয়ে আমার পরিচিত অথচ আমি চিন্তে পারছি না ! মেয়েটি আর কিছু বলল না ।
আমি অনেক জিজ্ঞেস করার পরেও কিছু বলল না । কেবল হাসল । বলল
-চেষ্টা করে দেখো আমাকে চিন্তে পারো কিনা । কালকে দেখা হবে আবার ।
মেয়েটি আর দাড়াল না ।
-আমার ক্লাস আছে । যাই ? আর চায়ের বিলটা দিয়ে দিও । টাটা ।
মেয়েটি হাসতে হাসতে চলে গেল ।
-নামটা অন্তত বলে যাও ।
-নাম বললেই তুমি চিনে যাবে । তবে এই টুকু বলি আমি তোমার স্কুলের বন্ধু । ভাল থেকো ।
মেয়েটি চলে গেল ।
আমি রুমে এসেও মেয়েটিকে মাথা থেকে বের করতে পারলাম না । স্কুলের কথা গুলো মনে করতে লাগলাম ।
কে হতে পারে ?
এই মেয়েটির সাথে মিল এমন কাউকে তো মনে পড়ছে না ।
ওয়েট !
একটা মেয়ে ছিল !
মেয়েটার মুখের সাথে এই মেয়েটার বেশ মিল ।
লিরা নাম মেয়েটার ।
মেয়েটির কথা আমার খুব ভাল মনে আছে ।
কিন্তু লিরা তো খুব মোটা ছিল । এই মেয়ে সেই মেয়ে হতে পারে না ।
তাহলে ?
রাতেও অনেক চেষ্টা করলাম কিন্তু মেয়েটাকে কিছুতেই চিনতে পারলাম না ।
পরদিন সকালে আবারও মেয়েটার সাথে দেখা । আমি ঐ মামার দোকানে বসে ছিলাম । কেন জানি মনে হচ্ছিল মেয়েটা আসবে !
বসে বসে চা খাচ্ছি ঠিক তখনই পেছন থেকে কেউ আমার কাধে হাত রাখল । পিছনে তাকিয়ে দেখি সে ।
-হাই । কি খবর ?
-ভাল ।
-চিন্তে পারলে আমাকে ?
খানিকটা কনফিউজ ছিলাম কিন্তু তবুও বললাম
-তুমি লিরা !
মেয়েটি কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে রইল । তারপর বলল
আমি জানতাম তুমি আমাকে ঠিকই চিনবে ।
যাক ধারনা ঠিক হয়েছে । এ লিরাই ।
-কিন্তু তুমি এতো ...
আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে লিরা বলল
-কবছর পরে দেখা হচ্ছে ?
-পাঁচ বছর তো হবেই !
-এই সময়ে কত কিছু চেঞ্জ হয় !
-হুম । আমাকে মনে রেখেছ ?
লিরা আমার দিকে তাকিয়ে বলল
-তোমাকে মনে রাখবো না ? এক মাত্র তুমিই ছিলে যে কেবল আমার মনের সাথে বন্ধুত্ব করেছিল । অন্যেরা তো কেবল আমার মোটা শরীরটাই দেখতো ।
আসলেই লিরা অনেক মোটা ছিল ।
মোটামুটি সবাই ই ওকে নিয়ে হাসি মশকরা করত । আমি নিজেও করতাম । কোনদিন চিন্তা করি নি ওর মনের অবস্থা কেমন হবে । একদিন টিফিন পিরিয়ডে লিরা দেখলাম স্কুলের পেছনে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে । ঐদিন সকালেই ওকে নিয়ে একটু হাসাহাসি করেছিলাম ।
নিজের কাছে এতো খারাপ লাগল । খুব বেশি অপরাধী লাগছিল নিজের কাছে ।
স্কুল ছুটির পরে আমি লিরার জন্য অপেক্ষা করছিলাম । লিরা এমনিতে সবার পরে বের হত । আমি ওর পথ রোধ করে দাড়ালাম । আমাকে ওভাবে দাড়াতে দেখে লিরার মুখটা একটু কালো হয়ে গেল ।
-বাসায় যাবে ?
-না ।
-টিউশনী ?
-হুম ।
-আজকে না গেলে হয় না ?
-কেন ?
-তোমাকে এক জায়গায় নিয়ে যেতাম !
-কেন ? আমি তোমার সাথে কেন যাবো ?
-কারন আমাকে একটা সুযোগ দেওয়া উচিত্ !
-কিসের সুযোগ ?
-আমি একটা অপরাধ করেছি সেই অপরাধটার প্রাশচিত্ত করার সুযোগ ।
-কি অপরাধ ?
-একজনের মনে কষ্ট দিয়েছি ।
লিরা কিছুক্ষন তাকিয়ে রইল আমার দিকে । বোঝার চেষ্টা করছিল যে আমি ওর সাথে ফান করছি কি না ! আমি বললাম
-দেখো আমি সবার সাথে এমনি ইয়ার্কি ফাজলামি করি । কিন্তু কাউকে কষ্ট দিতে চাই নি কোন দিন ।
লিরা আমার কথা শুনছিল মন দিয়ে ।
আমি জানি আমি তোমাকে কষ্ট দিয়েছি । একটা সুযোগ দাও ।
লিরা রাজি হল । ঐ দিন লিরাকে নিয়ে অনেক ঘুরলাম । প্রথম প্রথম ও একটু অস্বস্থি বোধ করছিল তারপরে ঠিক হয়ে গেল । পার্কে ঘুরতে গেলাম ফুচকা খেলাম । নিজে হাসলাম ওকে হাসালাম । যদিও মানুষজন ওকে আর আমাকে দেখে কেমন চোখে তাকাচ্ছিল । আমাদের ঐ দিকে তাকানোর টাইম কই ?
সন্ধ্যার সময় যখন ওকে বাসায় পৌছে দিলাম ওর চেহারায় কেমন একটা চমক ছিল । আমি বললাম
-তুমি আমাকে মাফ করেছ তো ?
লিরা হেসে বলল
-আমি আমার সারা জীবনে এতো চমত্কার সময় কাটাই নি ।
-আহা ওযেট কর না । সামনে আরো মজা হবে ।
-তাই ?
-হুম । আচ্ছা আমি যাই । কালকে দেখা হবে আবার ।
-হুম ।
হঠাত্ আমার কেন জানি একটু দুষ্টামী করতে মন চাইলো । লিরাকে বললাম
-একটু চোখ বন্ধ কর তো ।
-কেন ?
-আহা কর না ।
লিরা চোখ বন্ধ করলো । আর আমি তখনই ওর গালে টুপ করে একটা চুমু খেলাম । ওর চোখ সঙ্গে সঙ্গে খুলে গেল । ওর চোখের দিকে তাকিয়ে মনে হল খুব অবাক হয়েছে ।
খুব বেশি অবাক !
-এটা কি করলা ।
-কিছু না । রাগ কর কেন ?
আমি ওকে টাটা জানিয়ে চলে এলাম ।
সেই মোটা লিরা আজ আমার সামনে এটা ভাবতেই অবাক লাগছে । লিরা এখন যেমন স্লিম হয়েছে দেখতেও তেমনি সুন্দর হয়েছে । আর নিজেকে তেমনী মাবে প্রেজেন্ট করতে শিখেছে ।
-এই কি ভাবো ?
-কিছু না । তোমাকে দেখতেছি ।
-তুমি আসলেই লিরা তো ?
-কেন ? বিশ্বাস হচ্ছে না ?
-না মানে তুমি এতো সুন্দর হলে কিভাবে ?
লিরা আমার কথার জবাব না দিয়ে একটু রহস্যময় হাসি দিল । আমি বললাম
-ইস ! আবার যদি ঐ সময়টা পাওয়া যেত !
-কোন সময়টা ?
-ঐ যে তোমাকে নিয়ে ঘুরতাম । আর ...
-আর ?
-সন্ধ্যা বেলা যখন তোমাকে বাসায় পৌছে দিতাম তখন !
-তখন .?
-অপু তুমি ফাজিলের ফাজিলই আছো ।
-কিন্তু তুমি অনেক বদলেছো সুন্দরী !
-হয়েছে । এবার থামো ।
আমি বললাম
-আজকে সারা দিন তোমাকে নিয়ে ঘুরবো । তারপর সন্ধ্যার সময় তোমাকে বাসায় পৌছে দিব । সন্ধ্যা । আহা ! কতদিন এই রকম সন্ধ্যা আসে নাই ।
-তাই না ?
লিরাকে মিচমিচ হাসতে দেখলাম ।
-তুমি আসলেই ফাজিলই রয়ে গেছ !!

একটি বোবা মেয়ের গল্প




রাস্তায় কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দে ঘুম ভেঙে গেলো।ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য উঠতেই পিছন থেকে সিন্থিয়া হাতটা টেনে ধরলো!
:কি হলো ঘুম আসছেনা??
আমার হাতটাকে বুকের সাথে আরো শক্ত করে চেপে ধরে শুয়ে রইলো।
:ওয়াশরুমে যেতে হবে যে!
হাতটা ছেড়ে দিলো।ইশারায় বুঝিয়ে দিলো,যে যেনো তারাতারি ফিরে আসি।
ওয়াশরুমের কাজ সেরে এসে আবার তার কপালে একটা চুমু দিয়ে বললাম,
:এই যে আমি এসে গেছি!
সে আমার দিকে ফিরে আমাকে জরিয়ে ধরে ঘুমিয়ে পরলো।
আর আমি সেই এক অদ্ভুত অনুভূতির মাঝে সাঁতরে তার স্বাদ নিচ্ছি,এবং পুরোনো সৃতিগুলো ভেবে মনে মনে হাসছি।
♥নতুন বাসায় উঠেছি আজ।
জিনিসপত্র সব গুছিয়ে একটু ঘুমিয়ে সন্ধ্যায় ছাদে উঠলাম ছোট ৬ বছরের বোনকে নিয়ে।ছাদে উঠেতো আমি আর আসফিয়া(আমার ছোট বোন) পুরোই অবাক।অসম্ভব সুন্দর একটা ছোট্ট কাঁচের ঘর,উপর দিয়ে পুরো ফাঁকাযার ভিতর কেউ বসে আছে।আমি আসফিয়াকে নিয়ে এককোনে যাবো ভাবলাম।কিন্তু তার আগেই সে গায়েব!!চেয়ে দেখি সে কাঁচের ঘরের ভিতর ঢুকে সেখানে থাকা মেয়েটার সাথে কথা বলছে।আমি দাড়িয়ে রইলাম তার ফিরে আসার জন্য।কিছুক্ষন পর মুখ গোমড়া করে ফিরে আসে।
:আমার আপুটা কি হয়েছে?
:ভাইয়া মেয়েটাতো আমার সাথে কথাই বলল না।শুধু আমার দিকে চেয়ে রইলো।মনে হয় বোবা!
:ছি!না জেনে কারো নামে এসব বলতে নেই।
:আরে না সত্যি বলছি!!
সেদিন আর ছাদে থাকিনি।চলে এসেছিলাম নিজের রুমে।তবে সন্দেহ হলো ঐ ঘরটাকে ওইখানে বানানোর আর তার মধ্যে মেয়েটার থাকার জন্য। পরদিন অফিস থেকে ফিরে রাতে ৮ টার দিকে ছাদে গিয়ে দেখলাম মেয়েটা আজও সেখানে বসা।আমি দরজায় নক করলাম,সে বাহিরে বের হয়ে এসে আমার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালেআমি বললাম,
:আসলে আপনাকে একটা প্রশ্ন করার ইচ্ছা ছিলো।
ইশারায় বলতে বললে বললাম,
:আসলে আমার বোন বলেছিলো আপনি নাকি বোবা।
:সে কিছু না বলে অন্য দিকে চেয়ে রইলো।
'
:সরি!!! আমার আসলে একটু সন্দেহ ছিলো।আসলে কার কপালে কি লেখা থাকে তা কিন্তু সবাই জানেনা।
কথাটি শেষ করার আগেত্য"ই সে ঘরে ত। ঢুকে গেলো।আমিও আর কোনো কথা না বাড়িয়ে কিছুক্ষন থেকে রুমে চলে আসলাম।পরের দিন অফিস ছুটি ছিলো, তাই আমি আর আমার সাথে আসফিয়া দুজন বিকালে ছাদে বসে ছিলাম। পরে আসফিয়া হঠাৎ বলল,
:ভাইয়া একটা গান গাওনা!
:না এখন না।
:আরে ভাইয়া গাওনা!!
:আচ্ছা দাড়া গাচ্ছি।
তখন দেখলাম দুটো ছেলে আসলো।দেখে মনে হচ্ছে দুই জমজ ভাই।বয়স আনুমানিক আসফিয়ার চেয়ে একটু বড়!
:আমরাও শুনবো আপনার গান!
:আচ্ছা!তা তোমাদের নাম?
:আমি সাফি আর ও রাফি।৩ তলায় থাকি।আপনারা মনে হয় নতুন এসেছেন।
:হ্যা এইতো দুই তিন দিন হলো।
:দরজার দিকে তাকিয়ে দেখি বোবা মেয়েটি দাড়িয়ে আছে।আমি তাকাতেই চলে গেলো।
ভাবছিলাম কোন গানটা গাইতে পারি।আসলে কেউ গান গাইতে বললে গাইতে চাইনা।কিন্তু যখন গান গাইতে চাই তখন গান খুজে পাইনা।
:কি গাইতে পারি,,,,,,,,,,,,,,,,,,
:ভাইয়া একটা হিন্দি গান গাও
:না বাংলা,
:আরে বললাম তো হিন্দি।
ওরা কি গান গাবো তা নিয়ে তর্কাতর্কি করা শুরু করে দিলো।তখন সাফি বলে উঠলো,
:ভাইয়া তাহসানের ভালোবাসি গানটা গাওনা!
:আমি বললাম আচ্ছা ঠিক আছে।
ঠিক তখনই দেখলাম যে সেই বোবা মেয়েটা একটা গিটার নিয়ে আসলো।আর আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো।আমি তখন তাকে বললাম,
:জ্বি আমিতো আসলে গিটার বাজাতে পারিনা।
সে আমাকে ইশারায় বলল সমস্যা নেই আমি পারি বাজাতে।
তারপর পাশে রাখা আমার ফোন নিয়ে তার ফোনে একটা কল দিয়ে কেটে দিলো।তারপর আমাকে ফোনটা দিয়ে একটা মেসেজ পাঠালো।যাতে লেখা ছিলো,
:কোন গানটা গাবেন??
আমিও রিপ্লে দিলাম,
:তাহসানের ভালোবাসি।
সে গিটার বাজানো শুরু করলো।আমি ছাদে রাখা একটু উচু কিছু একটার উপর বসলাম।তারপর গাওয়া শুরু করলাম,
"আমার এই আধার আমার কবিতা,
সময়ের পাতায় যা লিখে চলি,,,
ছিলো সবই তোমারও আছে আজও তোমার,,,,
আধারের নির্ঝরতা,,,,,
এই নিঝুম রাতে একা আমি জানালার পাশে দাড়িয়ে,,
চিৎকার করে বলতে চাই তোমায় আমি,,,,,,
গানটা গাচ্ছিলাম আর মেয়েটার দিকে মাঝে মাঝে কেনো জানি চোখ চলে যাচ্ছিলো।আর যখনই গাইলাম,,,,,
ভালোবাসি, ,,,,, শুধু তোমায় ভালোবাসি,,,
এখনো শুধু তোমায় ভালোবাসি,,,
তখনও তার দিকেই চেয়েছিলাম,কেনো জানিনা। তবে ইচ্ছা করে তাকাইনি।আমাদের চোখাচোখি হলে সাথে সাথে সে নিচের দিকে তাকায়।মনে হয় লজ্জা পেয়েছে।
তারপর হঠাৎ একটা ফোন আসলো,দেখি নাইম ফোন দিয়েছে।
:হ্যালো!
:কি হইছে??
:আরে সাদ এর এক্সিডেন্ট হইসে একটা সি এন জির সাথে।এক্ষন ঢাকা মেডিকেল আয়।
আমি দ্রুত সেখান থেকে উঠে যাওয়ার সময় আসফিয়াকে সন্ধ্যা হলে বাসায় চলে যেতে বলি।
মেডিকেল থেকে ফিরতে রাত প্রায় ৯ টা বাজে।বাসায় ঢুকতেই আম্মু জিজ্ঞাসা করলো
:কিরে কোথায় গেলি??
:একটু কাজ ছিলো বাইরে।
:তা আসফিয়া কোথায়?ও তো তোর সাথেই ছিলো!
আমি আর কিছু বললাম না।সোজা ছাঁদ।
দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকেই আসফিয়াকে বললাম,থাপ্পড় দিয়ে কান লাল করে দিবো।বলে তাকে কোলে করে তাকে ঘরে নিয়ে কতক্ষন বকলাম।হঠাৎ একটা unknown নাম্বার থেকে কল আসলো।
:হ্যালো!
:,,,,,,,,,,,,,, , ,,,,,,,,
***রাত ৯:১৩
চারিদিকে নিরবতা বিরাজমান।
আমি মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে।আর পাশে থাকা মানুষটি কিছু টাইপ করছে,,,,
টুং!!!!
মেসেজে লেখা,,,
"আসলে আমিই আসফিয়াকে আমার সাথে রেখে দিয়েছিলাম।ওর কোনো দোশ নেই।আপনি ওকে ওভাবে না বকলেও পারতেন"
,
,
,
:কি হলো??কিছু বলছেন না যে!
:কি বলবো?বলার কিছুই নেই!!
কিছুক্ষন নিরবতা,,,,,
:আচ্ছা আপনি কিন্তু খুব ভালো গিটার বাজাতে পারেন।
:জ্বি আসলে ছোট বেলায় শিখেছিলাম।
:ও আচ্ছা।
:আপনিও
:কি?
:খুব ভালো গান গাইতে পারেন।
:আরে নাহ!ততো ভালোনা!
:সত্যি বলছি।
:হুমমম।
আচ্ছা আপনি কি সারাদিনই ছাদে থাকেন নাকি?
:জ্বিনা আসলে যখন মন বলে তখন।
:তাই?তারমানে আপনি মনের কথাকে প্রাধান্য বেশি দেন?
:জ্বি
:ও আচ্ছা।জ্বি আমি তাহলে আসি।
:থাকুন না কিছুক্ষন!আপনার সাথে কথা বলে ভালোলাগছে।
:ভালোযে আমারো লাগছে,,,নাহ আর ভালো লাগাতে হবেনা।আমি আসি,
:আচ্ছা।
ঘরে এসে রাতের খাবার খেয়ে শুতে গেলাম।তবে ঘুম আসলো রাতের একেবারে শেষের দিকে।আসলে,,
হ্যা আপনারা যা ভাবছেন তাই,,,আমি মেয়েটার কথাই ভাবছিলাম।
ভাবছি মেয়েটার সাথে আর দেখা করবোনা।কারন ওই চেহারার সামনে একবার গেলে মনে হয় দুটো চোখ আমাকে বন্দি করে রেখেছে।
এতো ভাবি!কিন্তু যখনি ফোনে একটা মেসেজ আসে "একটু ছাঁদে আসবেন??
তখন আর বসে থাকতে পারিনা।
:আজ ডাকলাম আসলেন না কেনো?
:আসলে আম্মুর এক বান্ধবির মেয়ের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম।আম্মু চান আমার সাথে ওই মেয়েটার বিয়ে দিতে।
৩০ মিনিট পর তার ফোন এলো।
: আপনি কি সত্যি বিয়ে করবেন??
আমি "থ"
ফোনটা কেটে গেলো।
আমি একদৌড়ে ছাঁদে।কিন্তু সেখানে কাউকেই পেলাম না।আর তাকে জিজ্ঞাসাও করা হয়নি যে সে কোন ফ্লাটে থাকে।
আমার মাথায় তখন একটা জিনিসই ঘুরছিলো।এ আমি কি শুনলাম!!!
সে কথা বলতে পারে??আমিতো তার নামটাও জানিনা!!রুমে আসতেই আসফিয়া বলল বাড়িওয়ালা আঙ্কেল এসেছিলো।আম্মু আব্বুর সাথে অনেক্ষন কথা বলল তারপর চলে গেলো।আর আমাকে বলে গিয়েছে যে আমি যেনো তোমাকে তার বাসায় যেতে বলি।
আমি আঙ্কেলের সমনে বসা।তারচোখ দিয়ে পানি পড়ছে।কিছুক্ষন পর সে বলা শুরু করলো।
"সিন্থিয়া তখন ক্লাস ৫ এ পড়তো।আমার ব্যাবসাটা খুব একটা ভালো চলছিলো না।আমি তখন প্রায়ই মদ খেয়ে রাত করে বাড়ি ফিরাতাম আর ওর মাকে কারনে অকারনে খুব মারতাম।একদিন ওর মার খুব জ্বর হয়। কিন্তু আমি ওর মাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাইনি।আমি তখন মাতাল ছিলাম।সিন্থিয়া ওর চাচার বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলো।যেদিন ও আসলো সেদিন,
দরজা খোলা ছিলো।আমি ওর মাকে ডাকছিলাম!
এই ওঠো,আমি আর তোমাকে মারবোনা।এই ওঠো!!
আমি বুঝে গিয়েছিলাম যে আমি মস্ত বড় একটা ভুল করে ফেলেছি।কিন্তু তখন খুব দেড়ি হয়ে গিয়েছিলো।সবাই জেনেছিলো ওর মা হার্ট এটাক করেছলো।সব কিছু আমার ভাই সামলে ছিলো।কিন্তু সিন্থিয়া কোনো অভিযোগ করেনি।সে নিরব হয়ে গিয়েছিলো।যেদিন তার মাকে কবর দিয়েছিলাম,সেদিন সে অনেক কেঁদেছিল।কিন্তু তারপর সে আর কোনো দিনই কাদেনি।আমি অনেক চেষ্টা করেছি তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার।কিন্তু সে আমার সাথে গত ১০ বছরে একটা কথাও বলেনি।আজ কিছুক্ষন আগে সিন্থিয়া আমার রুমে এসে কাঁদছিলো।আমি চোখের জল ধরে রাখতে পারিনাই।আমিও তা দেখে কেঁদে দিলাম।সে দৌড়ে এসে আমাকে জরিয়ে ধরে বলে
:আমি প্রলয়কে চাই।
:আমি বললাম মা কি হয়েছে আমাকে বল।
:আমি প্রলয়কে চাই।
আমার মেয়ে আজ ১০ বছর পর আমার সাথে কথা বলে কিছু চেয়েছে।আমি তাকে ওয়াদা করেছি যে তোমাকে তার কাছে ফিরিয়ে দিবো।তুমি আমাকে নিরাশ করোনা তুমি যা বলবে আমি তাই করতে রাজি আছি,আমি তোমার বাবা মার সাথে কথা বলেছি।প্লিজ আমার মেয়েকে বিয়ে করো।
কিছুক্ষন নিরবতা,,,,,,,,,
:সে কোথায়??
আমাকে সিন্থিয়ার রুম দেখিয়ে দিলেন।আমি রুমে ঢুকতেই দেখলাম সে আয়ানার সামনে দাড়িয়ে সাজছে।
:এইযে!!
সে ঘুরে আমার দিকে তাকালো।
তার চোখের দিকে তাকিয়ে আমি যেনো কোনো সুগভীর সাগরের মাঝে ডুবে যাছিলাম।আর তার সৌন্দর্যের কথা লেখার দ্বারা বর্ননা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
আমি তার কাছে গিয়ে তাকে আবারও বললাম,,
:মনে যায়গা খুজছি।আপনার মনে যায়গা হবে???
সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
:কি হলো যায়গা নেই?যাক সমস্যা নেই অন্য কারো কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করি।
বলেই যেই ঘুরে দরজার কাছে যেতে চাইলাম তখনই আমার হাত ধরে তার দিকে ফিরিয়ে শক্ত করে জরিয়ে ধরে কেঁদে দিলো,খুব শক্ত করে,যেনো আমি হারিয়ে যাচ্ছি।আমি বললাম,
:এইযে!!! এতো শক্তি কোথায় পেলে এতোটুকু শরীরে?
সে আমার গলায় একটা চুমু দিয়ে কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল,
:ভালোবাসি,,আর আমায় ভালোবাসবে?
:না।
:বাসতে হবে!না হলে খুন করে ফেলবো।

Saturday, September 1, 2018

[Real Love Story] কাউকে সত্যি সত্যি যদি ভালোবাসেন আপনি তাকে পাবেনই একদিন।




আম্মুর কথামত বাজার করতে যাচ্ছি। বাগ টা হাতে নিয়ে চলে আসলাম বাজারে। মাছ কিনতে গিয়ে।
আমি: আঙ্কেল ঐ মাছটা কত
পাশে থেকে খুব চেনা মেয়েলি কন্ঠে কে যেন বলে উঠলো
"মাছটা আমি নিব"
।
আমি তার দিকে তাকিয়ে আমার বুকের ভেতর মোচর দিয়ে উঠলো। সেই পরিচিত মুখ। তিন বছর পরে দেখা আজ। কিন্তু প্রেরনা যে কেন আমাকে ছেড়ে গেল সেটা রহস্যের আড়ালেই থেকে গেল। কি ঘটেছিল তিন বছর আগে ফিরে দেখা যাক।
।
আমার নাম রুপম।তিন বছর আগে আমি যখন রাজশাহী বিশ্বদ্যালয়ে চান্স পায়। ১ম দিন ভার্সিটিতে গিয়ে বসে আছি। যেহেতু আমার বাড়ির পাশে রাজশাহি বিশ্ববিদ্যালয় তাই আমি প্রায় সবকিছুই চিনি। হঠাৎ কেউ মেয়েলি কন্ঠে বলল
মেয়েটি: রসায়ন বিভাগ কোন দিকে
আমি: হা করে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছি। একদম পরির মতো। নিল ড্রেসে নিল পরি একটা
মেয়েটি: আমার এভাবে তাকিয়ে থাকা দেখে একটু নার্ভাস ফিল করলো এবং চলে গেল।
আমি: (পেছন থেকে ডাক দিলাম) এই যে মিস
মেয়েটি: কি
আমি: দাড়ান
মেয়েটি: বলেন
আমি: চলেন যায়
মেয়েটি: কোথায় যাবো
আমি: রসায়ন বিভাগে
মেয়েটি: আপনার সাথে কেন যাবো
আমি: আমিও এইবার নতুন ভর্তি হয়েছি রসায়ন বিভাগে।
মেয়েটি: আচ্ছা চলেন।
।
তারপর মেয়েটির সাথে একটু আধটু কথা হলো। মেয়েটির নাম ই তো জানা হলো না। দুররর। মেয়েটির গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ। এখানে মেসে থাকবে হয়ত।
যায় হোক আমি প্রথম দেখায় প্রেমে পড়েছিলাম। পরের দিন আমি ভার্সিটিতে গিয়ে অপেক্ষা করছি আমার নিল পরির জন্য। 
।
লক্ষ করলাম গেট দিয়ে ঢুকছে। আমার সামনে দিয়ে চলে যেতে লাগছিল।
আমি: এই যে নিল পরি
মেয়েটি: আমাকে বলছেন
আমি: হুমম। চলেন একসাথে যায়(তারপর দুজন একসাথে হাটসি)
মেয়েটি: আচ্ছা আমাকে পরি বললেন কেন
আমি: আপনি পরির মতো সুন্দর তাই
মেয়েটি: আমি সুন্দর না আপনার চোখটায় ভিন্ন
আমি: হয়ত। আচ্ছা আপনার নামটাই তো জানা হলো না
মেয়েটি: প্রেরনা। আপনার
আমি: রুপম।
।
তারপর ক্লাসে গিয়ে আর কথা হয় নি। পরের দিন একটু লেট হয়ে গেল গিয়ে দেখি প্রেরনা আগেই চলে এসেছে। মনে হচ্ছে চিন্তায় আছে।
আমি: কেমন আছেন
প্রেরনা: ভালোই। আপনি
আমি: ভালো। আপনাকে চিন্তিত মনে হচ্চে
প্রেরনা: হুমম। মানে মেস নিয়ে চিন্তায় আছি। কোথায় উঠবো। কোথায় উঠলে ভালো হবে।
।
ভাবলাম আমাদের বাসার নিচ তালায় রুম খালি আছে প্রেরনা যদি ওখানে উঠে আমার ভালোই হবে। আম্মুকে বলে আমি ব্যবস্থা করে দিব।
।
আমি: আচ্ছা আপনি আমাদের বাসায় থাকতে পারেন খালি আছে নিচের তালায়। দুজন থাকা যাবে। 
প্রেরনা: আচ্ছা দেখি।
আমি: আপনার কোন সমস্যা হবে না আমাদের বাসায়। রান্না করতে পারেন ই তো।
প্রেরনা: হুমম পারি।
আমি: তাহলে কালকেই আসুন আমি আম্মুকে বলে দিব
প্রেরনা: কিন্ত ভাড়া
আমি: সমস্যা নেই আপনি আমার ফ্রেন্ড। মেসে থাকলে যা লাগত তাই ই দিবেন।
প্রেরনা: আচ্ছা আপনাকে ধন্যবাদ।
আমি: ধন্যবাদ লাগবে না বন্ধু তো আমরা
প্রেরনা: হুমম
আমি: কালকে তাহলে চলে আসেন।
প্রেরনা: আচ্ছা আপনার নং. টা দেন যোগাযোগ করে আসবো কালকে।
আমি: হুমম ০১৭........
।
তারপর দিন থেকে প্রেরনা আমাদের বাসার নিচ তালায় আর আমি ওপর তালায় থাকতাম। প্রেরনা আর ওর বান্ধবি স্মৃতি থাকে। এখন প্রেরনার সাথে আমার খুব ভালো বন্ধুত্ব। আমাদের সম্পর্কটা এখন আপনি থেকে তুই তে চলে এসেছে।
।
প্রতিদিন আমি প্রেরনা আর স্মৃতি একসাথে ভার্সিটি যায়। একসাথে ঘুরি আর গল্প করি। আবার একসাথে বাসায় আসি।
।
একদিন সকাল বেলা ঘুমিয়ে আছি। হঠাৎ কে যেন আমার গায়ে পানি ঢেলে দিলো।
আমি: কোন শালা রে
প্রেরনা: (কান চেপে ধরে) ঐ আমি তোর শালা
আমি: নাহহ। আসলে ঘুমের ঘোরে বলে ফেলেছি। কান ছাড়
প্রেরনা: কয়টা বাজে দেখেছিস তুই এখনো ঘুম পাড়িস। রাতে কি করিস
আমি: যা করি করি। তাই বলে তুই আমাকে ভিজিয়ে দিবি।
প্রেরনা: বেশ করেছি
আমি: দাড়া
প্রেরনা: দৌড় দিতে লাগল
আমি: ঝাপটে ধরলাম
প্রেরনা: ছাড় বলছি ছাড়
আমি: ভিলেনি হাসি দিলাম
।
তারপর প্রেরনাকে বাথরুমে ঢুকিয়ে একবারে গোসল করিয়ে দিয়েছি।হিহি।
আমি: যা গোসল করিয়ে দিলাম ভার্সিটি যেতে হবে গোসল তো করতেই হতো।
প্রেরনা: শয়তান, কুত্তা। তারপর নিচে চলে গেল।
।
এভাবে চলতো আমাদের দিনগুলো। একদিন প্রেরনাকে না দেখলে থাকতে পারতাম না। রাতে আমি প্রেরনা আর স্মৃতি ছাদে বসে গল্প করতাম। কোনদিন খেলতাম।
একদিন প্রেরনাকে বলছি
আমি: কি রে এতোদিন হয়ে গেল একদিন ও তো তোদের রুমে আমাকে ডাকলি না।
প্রেরনা: কেন ডাকব তোকে
আমি: খায়তে যাবো আজ তোর হাতের রান্না। তুই নাকি রান্না করতে পারিস। 
প্রেরনা: আচ্ছা আসিস
।
দুপুর বেলা গেলাম ওদের রুমে। গিয়ে ভালো করে খেলাম। প্রেরনা ভালোই রান্না করে তবে আম্মু আরো ভালো। আমার একটা অভ্যাস হলো কোন কিছু খাওয়া শেষে প্রেরনার উড়নায় মুছে দেয় হাত
আজও মুছেছি। প্রেরনা রাগি লুক নিয়ে দু একটা মাইর দেয়। এখন প্রেরনা মাঝে আমাকে ডাকে খাওয়ার জন্য। আমিও খায়। আবার আম্মুর সাথেও ওদের ভালো ভাব। মাঝে মাঝে আম্মু ওদের খাওয়ায়।
.
আস্তে আস্তে প্রেরনার প্রতি আমি পুরোপুরি দুর্বল হয়ে পড়ি। একদিন ভার্সিটিতে 
প্রেরনা: রুপ।( প্রেরনা আমাকে রুপ বলেই ডাকে)
আমি: কি
প্রেরনা: রিক্ত আমাকে আজ প্রপোজ করছে
আমি: ওহহ।( মন খারাপ হয়ে গেল)
প্রেরনা: স্মৃতি বলছে যে হ্যা বলে দিতে ছেলেটা দেখতে ভালো তাই। আমি না করে দিছি।
আমি: নাহহ করায় ভালো
প্রেরনা: কেন
আমি: এসব ভালো না
প্রেরনা: হুমম। চল বাসায় যায়
আমি: হুমম চল।
।
বাসায় এসে ভাবছি প্রেরনাকে বলে দিব যে ওকে ভালবাসি। কিন্তু ও যদি আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আবার যদি আমার আগেই ও অন্য কারো হয়ে যায়।
।
একদিন আমরা সবাই ঝাল মুড়ি খাচ্ছি। খাওয়া শেষে আমি প্রেরনার উড়নায় হাত মুছে দিলাম। প্রেরনা রেগে গেলে।
প্রেরনা: শয়তান। তুই বার বার আমার উড়নাতে কেন হাত মুছিস 
আমি: আমার ইচ্ছা তাই
প্রেরনা: খালি পারিস মুছতে কোনদিন তো একটা উড়না কিনে দিস না
আমি: একটা কেন পুরো মার্টেকের উড়না তোকে দিয়ে দিলাম। যা নিয়ে নিস।
প্রেরনা: রেগে গিয়ে দু একটা মাইর দিলো।
।
পরের দিন বাজারে গিয়ে একটা লাল উড়না কিনলাম আর একটা মার্কার পেন।
বাসায় এসে উড়নার ওপর মার্কারি দিয়ে বড় করে লিখে দিলাম আমি তোকে ভালোবাসি প্রেরনা
উড়নাটা প্রেরনাকে দিয়ে দিলাম আর বললাম বাসায় গিয়ে খুলে দেখবি। আর কালকে পড়ে আসবি।
।
আজ রাতে প্রেরনা ছাদে আসলো না। আমি ফোন দিলেও ধরছে না। তাহলে কি ও আমার প্রপোজ করার কারনে এমন করছে। পরের দিন ভার্সিটিতেও আসে নি। আমি তো পাগল হয়ে গেছি তিন দিন প্রেরনা ভার্সিটি যায় নি। কল রিসিভ করছে না। ওকে একদিন না দেখলে আমি থাকতে পারি না।
।
তিন দিন পরে ৪র্থ দিন প্রেরনা আসলো। দুরর থেকে লক্ষ করলাম আমার দেওয়া উড়না টা পরে আসে নি। তাহলে কি প্রেরনাও আমাকে ভারোবাসে না। মনটা খারাপ হয়ে গেল।
আমি: কি রে এই তিন দিন আসিস নি কেন
প্রেরনা: সেটা তুই ভালো করে জানিস
আমি: আমার কল রিসিভ করিস নি কেন
প্রেরনা: তোর কারনেই।
আমি: সরি রে আমাদের বন্ধুত্ব টা নষ্ঠ করিস না
প্রেরনা: নাহহ আমি আর আমাদের মাঝে কোন সম্পর্ক রাখতে চাই না। তুই আর আমার সাথে কথা বলবি না। এই নে তোর উড়না।( চলে গেল সামনে থেকে)
।
আমি কি করব ভেবে পাচ্ছি না। বাসায় চলে গেলাম। 
আমি কয়েকদিনে পাগলের মতো হয়ে গেছি। ঠিক মতো খায় না ঘুমায় না। ভার্সিটিতে যায় না।
।
একদিন রাত দশটা বাজে শুয়ে শুয়ে প্রেরনার কথা ভাবছি। হঠাৎ ফোনে মেসেজ আসলো প্রেরনার নং. থেকে " পেকেট টা খুলে দেখ গাধা"।
আমি পেকেট খুলে তো অবাক। উড়নার অপর পাশে মার্কারি দিয়ে লেখা "আমিও তোকে ভালোবাসি রুপ"।
আমি দৌড়ে ছাদে গেলাম কারন আমরা এই সময় ছাদে বসে গল্প করতাম।
।
আমি পেছন থেকে গিয়ে প্রেরনাকে জড়িয়ে ধরলাম ও ভয় পেয়ে গেল কিন্তু যখন দেখলো আমি আর কিছু বলল না।
প্রেরনা: এতো দিন পরে আমাকে মনে পড়লো তোর
আমি: প্রতি মুহূর্তে তোকে মিস করেছি। কিন্তু তুই তো বলেছিস তোর সাথে যেন কথা না বলি তাই তো আসি নি তোর সামনে
প্রেরনা: গাধা তুই যে পেকেট টা খুলবি না আমি কি জানতাম তা না হলে তোকে কষ্ট দিতাম না
আমি: এতোদিন আমাকে তোর মনে পড়ে নি।
প্রেরনা: হুমম প্রতিদিন ছাদে ভার্সিটিতে খুজেছি তোকে পায় নি।
আমি: সরাসরি বললেই তো পারতি ভালোবাসিস
প্রেরনা: সারপ্রাইজ দিব ভাবছিলাম কিন্তু তুই একটা গাধা।
আমি: এখন একটা পাপ্পি দে না।
প্রেরনা: আগে প্রপোজ কর।
আমি: করছি একবার
প্রেরনা: আবার কর
আমি: ভাবছি কি দিয়ে করব ছাদের ওপর টবে গোলাপ গাছ থেকে আধফোটা গোলাপ টা তুলে প্রেরনার সামনে হাটু গেড়ে বসে পড়লাম
।
" তোর হাত ধরে জিবনের সবটুকু পথ হাটতে চায়। তোর ইচ্ছাগুলো নিজের মধ্যে পোষন করতে চায়। তোর সাথে চলব যতদিন বাচঁব। তুই আমার অবকাশ নয় অভ্যাসে পরিনিত হয়ে গেছিস। তুই আমার সূচনীয় ও ঐন্তিম ভালোবাসা হবি?"
।
ফুল টা হাতে নিয়ে জড়িয়ে ধরলো
প্রেরনা: হুমম পাগল হবো। আমিও তোকে অনেক ভালোবাসি। আর একটা পাপ্পি।
।
ভালোই চলছিল আমাদের। রাতভর গল্প করা। সারাদিন ঘুরে বেড়ানো। প্রেরনার মিষ্টি শাসন। আমার আম্মু আমাদের সম্পর্ক টা নিয়ে কিছুটা আচ করতে পেরেছিল। আমি আম্মুকে সরাসরি বলে দিই যে আমি ওকে ভালোবাসি। আম্মু রাজি ছিল প্রেরনাকে বউ বানাতে। খুব আদর করত ওকে। 
।
একদিন আমি চট্টগ্রাম আমার ফুপুর বাসায় যায়। তিন দিন পর বাসায় এসে দেখি সব এলোমেলো হয়ে গেছে। প্রেরনারা আমাদের বাসা ছেড়ে চলে গেছে। ভার্সিটিতে খোজ নিলাম কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারছে না। স্মৃতি ও জানে না প্রেরনা কোথায় গেছে। ফোন বন্ধ। আমি টেনশনে পড়ে গেলাম। সেই যে গেল প্রেরনা আর ফিরে এলো না। তিন বছর দেখা কথা কিছুই হয় নি। আম্মুর কাছে আমার দেওয়া সেই উড়নাটা ফেরত দিয়ে গেছে।
।
আজ তিন বছর পর প্রেরনার সাথে দেখা। ও কি বিয়ে করে ফেলেছে ভয় হচ্ছে। কিন্তু ও কেন আমাকে ছেড়ে চলে গেছিলো আজ জানতেই হবে। 
আমাকে দেখে প্রেরনার চলে যেতে লাগল
আমি ডাক দিলাম শুনল না।
পেছন থেকে গিয়ে হাত চেপে ধরলাম।
আমি: প্রেরনা তোর সাথে কথা আছে দাড়া
প্রেরনা: আমার নেই। তুই হাত ছাড় না হলে কিন্তু ভালো হবে না।
আমি: ছাড়ব না
প্রেরনা: ঠাসসসসস। ( সবাই তাকিয়ে আছে)
আমি: হাত ছেড়ে দিলাম প্রেরনা চলে গেল। ভিড়ের মাঝে কোথায় যেন হারিয়ে গেল।
।
পেছন থেকে কে যেন কাধে হাত রাখলো। আমি ঘুরে দেখি স্মৃতি। 
আমি: দেখলি প্রেরনা আজ আমাকে চড় মারলো তাও এতোগুলো মানুষের সামনে
স্মৃতি: তোর ওপর ওর ঘৃনা জমে আছে রে।
আমি: কেন
স্মৃতি: প্রেরনা কেন তোকে ছেড়ে চলে গেছিলো আমি জানি
আমি: কিহহ এতোদিন কেন বলিস নি
স্মৃতি: প্রেরনা বলতে নিষেধ করেছিল
আমি: আজ তোকে বলতেই হবে
স্মৃতি: হুমম বলব চল ওদিকে।
স্মৃতি আর আমি এক জায়গায় গিয়ে বসলাম।
আমি: এইবার বল।
।
প্রেরনা: তুই যখন তোর ফুফুর বাসায় গিয়েছিলি। তোর বাবা তোকে প্ল্যান করে তোর ফুফুর বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছিল।তোর বাবা তোদের রিলেশনের ব্যাপারে আগেই হয়ত বুঝতে পারছিল। তুই ফুফুর বাসায় যাওয়ার পর তোর বাবা প্রেরনাকে ডেকে অনেক খারাপ খারাপ কথা বলে। চরিত্র নিয়ে অপমান করে। আরো বলে তোর সামনে যেন আর না আসে। তুই নাকি ওর সাথে টাইমপাস করেছিস। তুই নাকি তোর বাবাকে এগুলো বলতে বলেছিস প্রেরনাকে। তোর বাবা সেদিন খুব খারাপ খারাপ কথা বলে প্রেরণা কে। খুব কষ্ট পেয়েছিল ও সাথে মানসিক আঘাত। তাই ও সিধান্ত নেই আর রাজশাহীতে থাকবে না। সেদিন ই গ্রামের বাড়ি চলে যায়। যাওয়ার পথে ওর ফোন টা চুরি হয়ে যায়। পরে নতুন ফোন কিনে আমাকে ফোন দেয় এবং তোকে নং. দিতে নিষেধ করে। আর এসব বলতেও নিষেধ করে।
।
আমি: (চোখ দিয়ে কখন যে পানি ঝরছে বুঝতে পারি নি) প্রেরনা এখন কি বিবাহিত?
স্মৃতি: হুমম। কিন্তু
আমি: কিন্তু কি
স্মৃতি: ওর স্বামী মারা গেছে
আমি: কিভাবে।
।
স্মৃতি: ও বাসায় যাওয়ার পর ওর বিয়ে ঠিক হয়। ও রাজি হয়ে তোর বাবার কারনে। বিয়েটাও হয় কিন্তু বিয়ে করে ওকে নিয়ে যাওয়ার পথে রোড এক্সিডেন্ট এ ওর স্বামী সহ আরো অনেকে মারা যায়। ভাগ্যক্রমে ও বেচে যায়। এসব ঘটনা শুনে প্রেরনার বাবা স্টোক করে মারা যায়।
আমি: এখন প্রেরনা কোথায়
স্মৃতি: ওর মাকে নিয়ে রাজশাহিতেই থাকে। আর একটা জব করে।
আমি: প্রেরনার তো কোন দোষ নেই আমাকে ভালোবাসেছিল। ওর সাথে এমন হওয়ার কথা ছিল না তো। আমার বউ ই তো হওয়ার কথা ছিল।
আমি স্মৃতির থেকে প্রেরনার ঠিকানা টা নিলাম
।
চলে আসলাম প্রেরনার বাসায়। কলিং বেল দিলাম। একজন বয়স্ক মহিলা খুলে দিলেন। প্রেরনার মা হবে হয়ত
আমি: আন্টি প্রেরনা আছে
আন্টি: নাহহ। তুমি কে বাবা
আমি: আমি প্রেরনার বন্ধু
আন্টি: ওহ ভেতরে আসো প্রেরনা একটু পরেই আসবে বসো একটু।
আমি: আচ্ছা। আন্টি একটা কথা বলার ছিল
আন্টি: বলো
আমি: আমি প্রেরনাকে বিয়ে করতে চায়
আন্টি: তুমি হয়ত জানো না
আমি: জানি সব জানি। তারপর আমাদের মাঝে ঘটে যাওয়া সব কিছু খুলে বললাম 
আন্টি: আমার কোন আপত্তি নেই যদি প্রেরণা রাজি থাকে
আমি: রাজি হয়ত হবে না এখন
।
কিছুক্ষন পর প্রেরনা আসলো
অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। হয়ত ভাবছে আমি কিভাবে ওর ঠিকানা পেলাম।
আমি: কেমন আছিস প্রেরনা
প্রেরনা: সেটা আপনাকে বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।
আমি: আমাকে আপনি করে বলছিস কেন
প্রেরনা: অপরিচিত জন কে আমি আপনি বলি।
আমি: প্রেরনা আমি স্মৃতির কাছে সব শুনেছি। বাবার হয়ে আমি ক্ষমা চাচ্ছি ক্ষমা করে দে প্লিজ
প্রেরনা: আপনাদের মতো মানুষ কে ক্ষমা করার যোগ্যতা আমাদের নেই।
আমি: আমি তোকে বিয়ে করতে চায়
প্রেরনা: আমি করব না
আমি: তুই না আমাকে ভালোবাসিস
প্রেরনা: আমি কাউকে ভালোবাসি না। আপনার কথা শেষ হলে আপনি আসতে পারেন।
.
চলে আসলাম। আমি জানি প্রেরনা আমাকে এখনো ভারোবাসে কিন্তু স্বীকার করছে না। কি করব কিছুই ভেবে পাচ্ছি না।
স্মৃতি কে ফোন দিয়ে বললাম প্রেরনাকে বলতে যে আমি ঘুমের ঔষুধ খেয়ে এখন হাসপাতাল এ আছি।
।
স্মৃতি ফোন করে প্রেরনাকে বলল প্রেরনা হাসপাতালে চলে আসলো। কিন্তু আমি তো ঔষুধ খায় ই নি। একটু অভিনয় করছিলাম।
প্রেরনা: আমার পাশে বসে কান্না করতেছে।
আমি: ওর হাত চেপে ধরলাম
প্রেরনা: আমার দিকে তাকালো
আমি: কি রে তুই নাকি আমাকে ভালোবাসিস না তাহলে কেন এসেছিস
প্রেরনা: তুই ঘুমের ঔষুধ খাস নি
আমি: নাহহ। এমনি নাটক করলাম
প্রেরনা: উঠে চলে যেতে লাগল
আমি: যা এইবার কিন্তু সত্যি খাব। আর আমাকে পাবি না।
প্রেরনা: ঘুরে এসে মাইর শুরু করে দিলো। কুত্তা শয়তান 
।
তারপর সবাই আসলো আম্মু আব্বু প্রেরনার আম্মু স্মৃতি।
বাবা: প্রেরনা মা আমাকে ক্ষমা করে দেও। (হাত জোর করে)
প্রেরনা: না আঙ্কেল আপনি আমার বড়ো।
বাবা: আঙ্কেল না বাবা বলো
প্রেরনা: লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে নিলো।
।
সেদিনই আমাদের বিয়ে হয়ে গেল। অনেক কষ্টের পরে হলেও ভালোবাসার জয় হয়। এটাই সত্যিকারের ভালোবাসা। কাউকে সত্যি সত্যি যদি ভালোবাসেন আপনি তাকে পাবেন ই একদিন। ভরসা রাখুন আপনার ভালোবাসায়।
----------সমাপ্ত------------
www.NetPriyo.Ooo

এই মেয়ের সাথে বিয়ে হলে আমার সত্যিই খবর আছে....

নীতু মুখ দেখে মনে হল ও খুবই বিরক্ত হয়েছে । আমি খানিকটা অপ্রস্তুত বোধ করি । কি বলবো ঠিক বুঝতেও পারি না । কোন মতে বললাম
-আসলে এই দিক দিয়ে যাচ্ছিলাম তো, ভাবলাম তোমার সাথে একটু দেখা করে যাই !
নীতু এই কথাটা শুনে যেন আরও একটু বিরক্ত হল । বলল
-মিথ্যা কথা বলতে না পারলে না বলাই ভাল ।
আমি আবার অপ্রস্তুত হই । এভাবে নীতু আমার মিথ্যাটা ধরে ফেলবে ঠিক বুঝতে পারি নি । আমার এদিকে কোন কাজ ছিল না । আমি নীতুর সাথে দেখা করার জন্যই ওর ইউনিভার্সিটিতে এসেছি । এখন মনে হচ্ছে ওকে এভাবে বিরক্ত করা মনে হয় ঠিক হল না ।
আমাকে দেখে নিশ্চই বান্ধবীদের সামনে অপ্রস্তুত হয়েছে । ওর বান্ধবীরা কেমন মুখ টিপে হাসছিল । বারবার ধমকেও কিছুতেই যেন ওদের হাসি থামছিল না । শেষে বাধ্য হয়ে নীতু নিজেই ওদের সবার সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিল ।
ওর ক্যাম্পাসেরই ক্যান্টিনে বসলাম । আমি কিছু বলবো কি না ভাবছি এমন সময় নীতু আমাকে বলল
-আপনার অফিস নেই ?
কি বলব ?
-ছিল ।
-ছুটি নিয়ে এসেছেন নাকি মিস দিয়েছেন ?
-মিস দিয়েছি ।
-কেন ?
খুব বলতে ইচ্ছা করলো যে তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছিল তাই । কিন্তু এই কথা বলা যাবে না । এই কথা বললে নীতু আরো বেশি রেগে যাবে । অথবা বিরক্ত হবে । নীতু বলল
-আমাকে দেখতে ইচ্ছা করছিল, এই জন্য এসেছেন ?
দেখেছ অবস্থা ? এই কথা আমি মনে মনে ভেবেছি আর এই মেয়ে ঠিকই বুঝে ফেলেছে । এই মেয়ের সাথে বিয়ে হলে আমার সত্যিই খবর আছে । কোন কথা আমার বলা লাগবে না ! আগে থেকেই সব বুঝে ফেলবে !!
নীতু বলল দেখুন
-আসিফ সাহেব , আমার এসব ছেলে মানুষী ভাল লাগে না । পারিবারিক ভাবে আমাদের বিয়ের কথা বার্তা চলছে ভাল কথা । এখনই আপনি আমার জন্য অফিস করে দেখা করতে আসবেন তারপর আমরা একসাথে বসে চা খাবো । এক সাথে রিক্সায় ঘুরবো ... এসব নাটকীয় দৃশ্য আমার পছন্দ না । গত পরশু দিনও আপনি আমার ভার্সিটির সামনে এসেছিলেন তাই না ?
আমি চুপ করে রইলাম ।
কথা সত্য । পরশু দিন আমি এসেছিলাম । কিন্তু নীতুর সাথে ঠিক দেখা হয় নি । অনেকক্ষন দাড়িয়েও ছিলাম । কিন্তু নীতুর দেখা পাই নি ।
-দেখুন আমাদের হার্ডলি দুবার দেখা হয়েছে প্লিজ এই কথা বলবেন আপনি আমার প্রেমে পড়ে গেছেন ! জীবন বড় কঠিন একটা জায়গা । আজ আমার সাথে একটা দুর্ঘটনা ঘটুক, আপনি তখন আমাকে চিনবেনও না ।
আমি বুঝলাম নীতুর মেজাজটা এতো খারাপ কেন হল ?
ওর সাথে কিছু দিন পরে আমার বিয়ে হতে চলেছে । এখন যদি ওর সাথে দেখা করতে আসি তাহলে কি একটা খুব বেশি অন্যায় হবে ?
হ্যা এটা ঠিক আমি একটু পাগলামী করছি ! এভাবে হুটহাট করে চলে আসাটা ঠিক মানায় না ।
আমার মনটা একটু খারাপ হল । আজকে সত্যিই নীতুর সাথে রিক্সায় চড়তে চেয়েছিলাম । কিন্তু তা আর হবে বলে মনে হচ্ছে না । নীতু বলল
-আমার একটু পরে ক্লাস আছে । আমি যাই ।
-এক কাপ চা খেয়ে যাও ।
-এখন থাক । আর দয়া করে আজকের কথা গুলো আপনি কাউকে বলবেন না । আমার মা জানতে পারলে বকাবকী করবে ।
-আচ্ছা । সমস্যা নাই । আমি কাউকে বলবো না ।
নীতু উঠে চলে গেল । আমি ওর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়েই রইলাম । ভেবেছিলাম ক্যান্টিনের দরজার কাছে যাওয়ার মধ্যে নীতু একবার হলেও পিছন ফিরে তাকাবে । কিন্তু নীতু দরজার কাছে গিয়ে ফিরে তাকাল না । আমার মনটা খারাপ হয়েই রইল ।
বেশ কিছুক্ষন মাথা নিচু করে বাসে রইলাম !!
নীতুর সাথে পারিবারিক ভাবেই পরিচয় । বাবার কোন এক পরিচিত মানুষের মেয়ে । নীতুর বাবাই প্রথমে বিয়ের কথাটা তুলেছিল । দেখলাম চাকরি করছি বিয়ে তো করতেই হবে ! একে করলেই বা কি ? যেদিন ওকে প্রথম দেখতে গেছিলাম মনের ভিতর সত্যি কেমন একটা অদ্ভুদ অনুভূতি হয়েছিল ।
নীতুকে দেখে মনে হয়েছিল যে এই মেয়েটাকে আমি বিয়ে করবো ?
কি স্নিগ্ধ আর কোমল একটা চেহারা ! দেখলেই মনটা ভাল হয়ে যায় !! বিয়ের কথা মোটামুটি পাকাই হয়ে গেল ।
তারপর থেকে একটা ব্যাপার অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম যে আমি সারাক্ষনই নীতুর কথাই ভাবছি ! মাঝে মাঝে মনে হত আচ্ছা আমি যেমন সারাক্ষনে নীতুর কথাই ভাবছি নীতুও কি আমার কথা ভাবে !
এখন মনে হচ্ছে ভাবে না । সারাটা দিন মন খারাপ হয়েই রইলো । রাতের বেলা ঘুমাতে যাওয়ার আগে নীতু ফোন দিল ।
খানিকটা অপ্রত্যাশিত ভাবেই । নীতু সাধারনত আমাকে ফোন দেয় না । তাহলে কেন ?
-হ্যালো !
-ভাল আছেন ?
-এই তো । তুমি ?
-আমি ভাল নাই । আসলে নিজের কাছে খুব খারাপ লাগছে ।
-কেন ?
-আপনার সাথে আজ খুব খারাপ ব্যবহার করেছি ।
আমি চুপ করে রইলাম । নীতু বলল
-আসলে সকাল থেকে আমার মেজাজ টা এমন খারাপ ছিল ।
-মেজাজ খারাপ ? কেন ?
-আসলে আমাদের এলাকাতে কয়েকটা বকাটে ছেলে আছে । সব সময় মোড়ের মাথা বসে বসে আড্ডা মারে । মাঝে মাঝে এমন ব্যাড কমান্ট করে ।
-তা তোমরা কোন কিছু কর নি ? পুলিলে জিডি কর । আমার বন্ধু RAB এ আছে । ওকে বলবো ?
-না থাক ! কিছু করতে হবে না । ভাইয়াকে বলেছি । এই জন্য আপনার খারাপ ব্যাবহার করেছি । আপনি প্লিজ কিছু মনে করবেন না ।
-না না ঠিক আছে । আমি কিছু মনে করি নি ।
-না আমি জানি আপনার মন খারাপ হয়েছে । আমি ক্যান্টিন থেকে যখন বের হয়ে গেলাম তখন আপনি কেমন মাথা নিচ করে বসে ছিলাম । জানেন এটা দেখে আমার অনেক খারাপ আসছিল । মনে হচ্ছিল তক্ষুনি আপনার কাছে যাই । কিন্তু কি একটা সংকোচের কারনে পারি নি ।
আমি খানিকটা অবাক হয়ে বললাম
-তুমি ফিরে এসেছিল ?
-হুম । বিশ্বাস করেন আমি ঐ রকম ব্যাবহার কারতে চাই নি কিন্তু ..
-আচ্ছা ঠিক আছে । আমি কিছু মনে করি নি ।
মন খারাপ হয়েছিল কিন্তু এখন ঠিক হয়ে গেছে । ওপাশ থেকে খানিকটা নিরবতা । আমি বললাম
-তোমার কার পরশু কোন কাজ আছে ?
-কাল ?
নীতু কিছু যেন ভাবল । বলল
-সামনের সপ্তাহে আমাদের ভ্যাকেশন শুরু হচ্ছে । আমরা কজন মিলে ঠিক করেছি যে গাজীপুর আনসার ক্যাম্পে যাবে । যারা কাপল তারা । আপনি কি আসতে পারবেন ?
-পারবো না মানে ?
একটু যেন জোরেই বলে ফেললাম । তারপর একটু লজ্জাও পেলাম । নীতুর হাসির শব্দ শুনতে পেলাম । নীতু বলল
-আচ্ছা । আর মন খারাপ করবেন না । আমি এই সপ্তাহটা একটু বিজি থাকবো । পরীক্ষা আছে । কেমন ?
-আচ্ছা । একটা কথা বলবো ?
-বলুন ।
-তুমি ঐ দিন সাদা কিছু পরো কেমন । আর চোখে কাজল দিও ।
-আচ্ছা ।
মনটা যেমন খারাপ ছিল ঠিক তার চেয়েও হাজার গুন ভাল হয়ে গেল ।
দিন কাটতে লাগলো বড় আনন্দে । নীতুর সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করলেও ওকে ফোন দিলাম না পাছে ও আবার বিরক্ত হয় । ও বলেছিল যে ও পরীক্ষা নিয়ে বিজি থাকবে । তাই আগ্রহ নিয়েই অপেক্ষা করতে লাগলাম নীতুর আমন্ত্রনের জন্য ।
ফোনের নীতু বলেছিল কাপলরা নাকি যাচ্ছে সবাই গাজীপুর । নীতু যাবে আমার সাথে । ও আমাকে কাপল ভাবছে এটা ভাবতেই একটা অনুভূতি বয়ে যাচ্ছে ।
সপ্তাহের শেষে এসে আমাকে আবার ঢাকাকর বাইরে যেতে হল । অফিসের কাজে । যদিও জলদিই চলে আসবো তবুও যেতে ইচ্ছা করছিল না । কিন্তু কিছু করার নাই ।
ঢাকায় ফিরতে ফিরতে তিন দিন লেগে গেল । আমার কেবল ভয় লাগছিল আমি ঢাকার আগে নীতু আবার ফোন না দিয়ে ফেলে । যদি ফোন দিয়ে বলতে কালকে আমরা যাচ্ছি তাহলেই তো হয়েছিল ।
কিন্তু নীতু ফোন দিল না ।
বাসায় এসে একটা লম্বা ঘুম দিলাম । বিকালে উঠে চা খাচ্ছি এমন সময় মা এসে গম্ভীর মুখে আমাকে বলল
-নীতু কি তোকে ফোন দিয়েছিল ?
বুকের ভিতর একটা উত্তেজনা সৃষ্টি হল । নীতু তো আমাকে ফোন দেই নি তাহলে কি মাকে ফোন দিল ?
আমি বললাম
-না ।
-ওদের বাসার কেউ দিয়েছে ?
আমি এবার একটু চিন্তিত হলাম । ওদের বাসার কেউ কেন আমাকে ফোন দিবে ? বললাম
-কেন মা এই কথা কেন বলছো ?
মা বলল
-শোন আর নীতুর সাথে যোগাযোগ করার দরকার নাই !
-কেন ? মানে কি ??
-কোন মানে নাই !! মানা করেছি তাই । ঐ মেয়ের সাথে তোর বিয়ে হবে না ।
আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম । কি বলছে ??
মা বলল
-তুই যে দিন ঢাকার বাইরে গেলি তার পরদিনই নীতুকে কয়েকটা ছেলে জোর করে মাইক্রবাসে তুলে নেয় !
আমার মনে হল আমি ঠিক শুনছি না । মা এসব কি বলছে ??
-সন্ধ্যার সময় পুলিশ গ্যান্ডারিয়ার একটা বাসা থেকে ওকে উদ্ধার করে । আর এই কথা ওরা আমাদের বলে নি ! এখন বল এই মেয়েকে আমি কিভাবে....
মা আর কি বলছিল আমার কানে গেল না । আমি তখনই বাইরে বের হলাম । আমার কেবল মনে হতে লাগলো আমার যে কোন ভাবেই নীতুর কাছে যাওয়া লাগবে !! যেতেই হবে !!
যখন ওদের বাসায় পৌছালাম তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে !! কলিং বেল বাজাতেই দরজা খুলে গেল । নীতুর মা । আমাকে দেখে যেন খানিকটা অবাক হল । মা নিশ্চই এদের সাথে কথা বলেছে । মানে বিয়ে নিশ্চই ভেঙ্গে দিয়েছে ! আমাকে এখানে দেখার কথা না !
আমি বললাম
-নীতু কোথায় ?
-ঘরে আছে ।
-আমি ওর সাথে দেখা করবো !!
আমি তখনও জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিচ্ছি ! আর আমার কন্ঠে কিছু একটা ছিল যে নীতুর মা কেবল হাতের ইশারায় নীতু ঘরটা দেখিয়ে দিল ।
আমি ঘরে ঢুকে দেখি নীতু শুয়ে আছে । আমাকে দেখে একটু যেন অবাক হল ! আমি কেবল ওর পাশে গিয়ে বসলাম । ও ততক্ষনে উঠে বসেছে । আমার দিকে না তাকিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে আছে !!
আমিও কেবল তাকিয়ে রইলাম ওর দিকে ! অপেক্ষায় আছি কখন ও আমার দিকে তাকায় !!
কখন আমাকে কিছু বলে !!
হঠাৎ নীতু আমাকে বলল
-ওরা আমার কোন ক্ষতি করতে পারে নি ! তুমি বিশ্বাস কর !!
-কারা ??
নীতু এবার আমার দিকে তাকাল । তাকিয়ে রইলো একভাবে । লক্ষ্য করছিলাম ওর চোখে পানি জমতে শুরু করেছে !!
আমি বললাম
-আমি তোমার কাছে কিছু জানতে চেয়েছি ?
নীতু কেবল তাকিয়ে রইলো !!
-কিন্তু তোমার মা যে .....
আমি বললাম
-তুমি কেবল আমাকে কষ্টই দেও ! এক বার আমাকে ফোন দিতে পারতে না ?? আমার মা যা বলে বলুক আমার কথাটা কি তোমার শোনার দরকার ছিল না ??
নীতু এবারও চুপ করে রইলো !!
আমি বললাম
-তুমি সেদিন একটা কথা বলেছিলে মনে আছে যে আমি তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি কিনা ?? সেদিন বলতে পারি নি আজকে বলছি আমার কাছে তুমি ইম্পর্টেন্ট !! আর কিছু না ! আর কোন কিছু না । আর অন্য কোন কিছু তোমার আমার আমার ফিলিংস, আমার অনুভুতি বদলাতে পারবে না !!
এবার নীতুর চোখ দিয়ে পানি বের হয়েই গেল !!
আমি বললাম
-আর তুমি কিভাবে ভাবলে যে দূর্ঘটনায় তোমার কোন দোষ নাই সেটাতে আমি তোমাকে দোষারোপ করবো ??
আমি আর একটু কাছে গিয়ে বসলাম । একটু যেন সংকোচ হচ্ছিল তবুও ওর হাত টা ধরলাম । বললাম
-আমারদের কাপোল ট্যুরের কি হল ? আমাকে নিবা তো ?
অশ্রু ভারা চোখেও নীতু হেসে ফেলল ।
আমি কেবল তাকিয়েই রইলাম সেই চোখের দিকে !!
লিখা: রেজাউল ইসলাম